logo

উলিপুর খাদ্য গুদাম থেকে ভিজিডি'র অতি নিম্ন মানের চাল সরবরাহের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি

Published:04 Mar 2024, 04:18 PM

উলিপুর খাদ্য গুদাম থেকে ভিজিডি'র অতি নিম্ন মানের চাল সরবরাহের অভিযোগ


কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ভিজিডির বরাদ্দকৃত খাবার অযোগ্য চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এই নিম্নমানের চাল ইতিমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানরা ক্ষোভ প্রকাশ করে নিম্নমানের চাল সরবরাহ বন্ধের দাবী জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (৩ মার্চ) শেষ বিকালে উলিপুর সরকারি খাদ্য গুদামে।

জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসের ভিজিডির (দুঃস্থ ভাতার কার্ডের বিপরীতে) চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রায় ১শ ৯০ মেঃ টন চাল ইউনিয়ন গুলোতে সরবরাহ করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য গুদাম থেকে খাবার অযোগ্য পোকাযুক্ত (হাতিয়া নামক পোকা) দুই বছর পূর্বের পুরাতন চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলার বুড়াবুড়ি, ধরনীবাড়ী, তবকপুর ও বজরা ইউনিয়নে এই চাল সরবরাহ করা হয়েছে। ৩০ কেজি চালের বস্তার ভিতরে ও বাহিরে বাসা বেঁধেছে হাতিয়া পোকা। চালগুলো পুরাতন হওয়ায় ইতিমধ্যেই সেগুলোতে পাউডার (ডাষ্ট) দেখা দিয়েছে। যা খাবার অযোগ্য ও নিম্নমানের।

খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, ভিজিডি'র চাল সরবরাহ করার জন্য জেলা সদরের সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ট্রাকের মাধ্যমে এই চাল উলিপুর খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা হচ্ছে। ট্রাক চালক ইয়াছিন আলী (৬৫) বলেন, কুড়িগ্রাম সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ৩০ কেজি ওজনের ৬শ ২৯ বস্তা চাল উলিপুর গুদামে এনেছি। চাল গুলো খাবার অযোগ্য। এই চাল গুলো মানুষ খেতে পারবে না।

গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি মোখলেছুর রহমান জানান, নিম্নমানের খাবার অযোগ্য চালগুলো আমি দেখেছি। এই কারনে চাল নিতে গিয়ে ফেরত এসেছি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন ইউনিয়নে এই নিম্নমানের চাল সরবরাহের কথা স্বীকার করে বলেন, চালগুলো উলিপুর খাদ্যগুদামের ক্রয়কৃত নয়। এছাড়া চালগুলো ১ বছর পূর্বের। এ কারনে একটু সমস্যা হতে পারে। বস্তার ভিতরে ও বাহিরে হাতিয়া পোকা, চাল ডাষ্ট হওয়াসহ খাবার অযোগ্য চালের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সেগুলো স্বীকার করে বলেন, যেগুলো চালের বস্তার সমস্যা আছে, তা ফেরত পাঠানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতাউর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নিম্নমানের খাবার অযোগ্য চাল সরবরাহের কথা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা খাদ্য বিভাগের সাথে কথা হয়েছে। খারাপ চাল ফেরত নিয়ে ভাল চাল সরবরাহের নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।



© দিন পরিবর্তন