২৭-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
২৭-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
Logo
জাতীয়

বদলি আতঙ্কে প্রশাসনে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিতঃ ২০২৩-১২-০৫ ১৫:২৩:১৬
...

রেজাউল করিম হীরা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের সাড়ে পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তার বদলি চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি। ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনে রদবদল শুরু হয়েছে। গতকাল ৪৭ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সারা দেশের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) রদলির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বদলি আতঙ্কে প্রশাসনে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

গতকাল ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, আমরা যে শর্ত দিয়েছিলাম সেই অনুযায়ী ৩২০ জনের মতো ওসি, আর ২৫০ জনের মতো ইউএনও বদলি হতে পারে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব জানান, ২৭০ জন ইউএনও এক বছরের বেশি এবং ৩২০ জন ওসি ছয় মাসের বেশি বর্তমান কর্মস্থলে থাকতে পারেন বলে তারা মনে করছেন। এখন ৪৭ জন ইউএনওকে বদলির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে কমিশন।
তিনি জানান, চার নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যে তথ্য পেয়েছেন, সেটির ভিত্তিতেই থানার ওসি ও ইউএনওদের বদলি চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইসির পক্ষ থেকে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে একইস্থানে ৬ মাসের বেশি আছেন এমন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক বছরের বেশি আছেন এমন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বদলির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে নির্দেশনার আলোকে ৪৭ জন ইউএনওর বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশনের কাছে সুপারিশ পাঠায়। ওই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসি।

ইসি সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে ঢাকা বিভাগের ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জন, বরিশাল বিভাগের ২ জন, খুলনা বিভাগের ৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৬ জন, সিলেট বিভাগের ৬ জন, রাজশাহী বিভাগের ৬ জন এবং রংপুর বিভাগের ২ জন ইউএনওকে বদলির প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ওসিরা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন। সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ৬৪ জেলা প্রশাসক ও ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন। এরই মধ্যে জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, আইজিপি, জনপ্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে প্রশাসন ও পুলিশের বদলির বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসির চিঠির পর বদলি নিয়ে উপজেলা ও জেলায় কর্মরত অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে। মাঠ প্রসাশনের কর্মকর্তারা বলছেন- ইসি চাইলে সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যখন-তখন বদলি করতে পারে। ইউএনও ওসিদের বদলির চিঠির পর সবার মধ্যে একটু উদ্বেগ কাজ করছে।
তারা আরও বলেন, অনেক সহকর্মীর সন্তান স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে তাদের জন্য ট্রান্সফার অন্যদের চেয়ে বেশি কষ্টকর। পাশের জেলায় বদলি হলে এখনই পরিবার স্থানান্তর করব না। আর দূরের জেলা হলে পরিবার ছাড়া উপায় নেই। এ অবস্থায় একটু অস্বস্তি কাজ করছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের চিঠি অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বদলির তালিকা আজ সোমবারের (গতকাল) মধ্যেই প্রস্তুত করা হবে। আশা করি, আগামীকাল (আজ) মঙ্গলবারই নির্বাচন কমিশনে চিঠির উত্তর দেয়া হবে।

জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। পর্যায়ক্রমে সব থানার ওসিকে বদলির প্রস্তাব দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও তিনদিন সময় দিয়েছে ইসি। গতকাল ইসির উপসচিব মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ০২নং ক্রমিকে বর্ণিত পত্রের অনুবৃত্তিক্রমে আদিষ্ট হয়ে জানাচ্ছি যে, সব থানার ওসিকে পর্যায়ক্রমে বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে ৫ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে। উহা মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য অবহিত করা হলো।’

গত ৩০ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সব থানার ওসিকে ও ইউএনওকে বদলির নির্দেশনা দিয়ে প্রস্তাব পাঠাতে বলে ইসি। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ৪৭ জন ইউওনকে বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন চাইলে তা দেয় ইসি।

উল্লেখ্য, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। এ কার্যক্রম শেষ হবে আজ। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। পরে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর।