০৩-এপ্রিল-২০২৫
০৩-এপ্রিল-২০২৫
Logo
রাজশাহী

বগুড়ায় যমুনার বিস্তীর্ণ চরে পেঁয়াজ চাষ ছাড়িয়েছে লক্ষ্যমাত্রা

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিতঃ ২০২৪-০২-১৪ ১৪:৫৮:৪২
...

নজরুল ইসলাম দয়া, বগুড়া :
যমুনা নদীর চরে অন্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজের আবাদ এ বছর ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রা। চাষ বাড়ার সঙ্গে ভালো ফলন হলে বগুড়ার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলাগুলোতে পেঁয়াজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জেলার ধুনট, সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনার বিস্তীর্ণ চরে পেঁয়াজ চাষ করছেন ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, আগে চরাঞ্চলে পেঁয়াজ চাষ কম হতো। এখন চাষ বেড়ে কয়েক গুণ হয়েছে। কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের সঙ্কট এবং দাম বেশি হওয়ায় যমুনা চরাঞ্চলে অন্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে কৃষকেরা বেশি আগ্রহী। এ বছর গম চাষে গুরুত্ব না দিয়ে অধিকাংশ কৃষক পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় চরাঞ্চলের চাষিরা বাম্পার ফলন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছেন। ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা পেলে চরে পেঁয়াজ চাষ আরও বাড়বে জানিয়েছেন কৃষকরা।

যমুনা নদীর চর এলাকার বাসিন্দা নবীর উদ্দিন ও শাহ আলী জানান, প্রতিবছর নদীর পানি শুকিয়ে গেলে এসব বালুচরে অন্য ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজের চাষ করা হয়। পেঁয়াজ চাষে ব্যয় হয় বেশি। সেই তুলনায় গত কয়েক বছর তেমন লাভ না হওয়ায় আগ্রহ কম ছিল। বর্তমানে পেঁয়াজের চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় আগ্রহের সঙ্গে বেড়েছে পেঁয়াজ চাষ।

বগুড়া জেলা কৃষি বিভাগ সুত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫৪ মেট্রিকটন। এ পর্যন্ত জেলায় ৩ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। চারা রোপণ কাজ চলমান রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে। এ ছাড়া জেলায় ৮০৫ হেক্টর জমি থেকে আগাম জাতের পেঁয়াজ তোলা হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, সাধারণত নভেম্বর মাস থেকে যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করে। তখন চর পেঁয়াজ চাষের উপযোগী করে তোলার জন্য কাজে নেমে পড়েন কৃষকরা। পৌষ মাস থেকে চারা রোপণ শুরু করেন। চৈত্র মাসে শুরু হয় পেঁয়াজ তোলা। চরে বিঘাপ্রতি চাষাবাদে খরচ হয় ১৫-১৮ হাজার টাকা। এক বিঘায় গড়ে ৪০-৫০ মণ ফলন হয়। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা লাভের হিসাব গুনছেন কৃষকরা। তারা দেড় থেকে দুই মাস পরই পেঁয়াজ ঘরে তুলবেন। এখন তারা খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত।

সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের ঘাগুয়া এলাকায় যমুনার চরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরের মাদারগঞ্জ নৌ-ঘাটের উত্তরপাশে বিশাল এলাকাজুড়ে উর্বর পলিমাটিযুক্ত জমিতে কৃষকরা পেঁয়াজের বীজ ও চারা রোপণ করেছেন। গত কয়েকদিন আগে রোপণ করা বীজ গজিয়ে চারাগাছ বেশ বড় হয়েছে। পেঁয়াজের ক্ষেতে নিরানী দিচ্ছিলেন চাষিরা৷ দলু মোল্লা নামের এক কৃষক জানান, ভরা বর্ষায় চরে অনেক পলি জমে। পলি পেঁয়াজ খেতে সার হিসেবে কাজ করে। এতে ওষুধ-সারে খরচ কম হয়। ওই চাষি ৩০ বিঘা জমিতে পৌষ মাসের শেষের দিকে পেঁয়াজের বীজ ছিটিয়েছেন। শুধুমাত্র ঘাগুয়া চরেই ১৫০০ বিঘার বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছর এই উপজেলায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে ১৯ হাজার ২০০ মেট্রিকটন পিঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিলো। এ বছর পেঁয়াজ চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬০০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ১৬১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এ বছরও ভালো ফলন হবে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, যমুনা চরের পলিমাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বেশ কিছু প্রদর্শনী প্লটও করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবেন এবং বাজারে ভালো দাম পেলে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মতলুবর রহমান জানান, পেঁয়াজ চারা রোপণ চলমান রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে। বগুড়ায় স্থানীয়ভাবে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে। বাকিটা আমদানির ওপর নির্ভর করে। গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। ভালো ফলন হলে এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলাগুলোতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।