০৫-ডিসেম্বর-২০২৩
Logo
সম্পাদকীয়

সার নিয়ে কারসাজি নয়

দিন পরিবর্তন ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ২০২৩-১০-১৯ ১৮:৪৯:৫৪
...

দেশের উৎপাদনে ভূমিকা রাখেন কৃষকরা। আর কৃষকদের প্রধান উপকরণ হচ্ছে সার, বীজ ও কৃষি যন্ত্রপাতি। এসব উপকরণ সরবরাহে যদি বিঘ্ন ঘটে, তাহলে এ সংকটের প্রভাব পড়বে সারা দেশের খাদ্য উৎপাদন-ব্যবস্থাপনায়। এর মধ্যে কৃষি কাজের প্রধান উপকরণ সার নিয়ে যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন ডিলাররা, তাহলে পণ্য উৎপাদনে নীরবে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। আপাতদৃষ্টিতে এটি দৃশ্যমান না হলেও এই ক্ষতি ফসল ফলনে স্পষ্ট হবে। ফসল রোপণের সময় যদি সার প্রদানের মাত্রা বা সময় বিঘ্নিত হয় তাহলে ফলন বিপর্যয় অনিবার্য। এই সব কারণ বিবেচনায় নিয়ে যথা সময়ে পরিমাণ মতো সার জমিতে দিতে হবে। এখন কৃষকরা যদি যথা সময়ে সার সরবরাহ না পান, তাহলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে এখানেই। 


প্রায় শোনা যায়, এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলাররা সার সংকটের অজুহাত তুলে মূল্য বাড়িয়ে দেন। বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মানেন না। তখন এক দিকে কৃষকরা বাড়তি মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হন, অন্যদিকে সময়মতো জমিতে সার দিতে পারেন না। ব্যাহত হয় সুষ্ঠু উৎপাদন। এই দুই কারণে ফসলের উৎপাদন-মূল্য বেড়ে যায়। যার কারণে খাদ্যপণ্যের মূল্যও বেড়ে যায়।


সরকারের কর্তব্য হলো- সার সরবরাহে এলাকাভিত্তিক দায়িত্বে যেসব ডিলার নিয়োজিত, তাদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা। নির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে তাদের পরিচালনা করা। এর ব্যত্যয় ঘটলে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। জবাবদিহিতা না থাকলে সার-ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে কৃষি-উৎপাদনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর এর ফল ভোগ করতে হবে কৃষির সঙ্গে জড়িত পরিবার, দেশ এবং সর্বোপরি সমগ্র জাতিকে।


কয়েক দিন আগে দৈনিক দিনপরিবর্তনে সম্পাদকীয় নিবন্ধে সার সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। এতে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের কথা উঠে এসেছে। সেই নিবন্ধে বিসিআইসির ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কথা লেখা হয়েছে। এখন যদি তৃণমূলে সার নিয়ে কারসাজি চলে, তাহলে কৃষিকে সংকটমুক্ত রাখা যাবে কীভাবে? কৃষিপ্রধান এই দেশে যদি কৃষকই সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খায়, তাহলে কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এই জন্য সার আমদানি, উৎপাদন, সরবরাহ সর্বোপরি তৃণমূলে বিতরণ-ব্যবস্থা পর্যন্ত সুশৃঙ্খল করতে হবে।


 সার নিয়ে কোথাও কোনো সংকট দেখা দিলে উৎপাদনের স্বার্থে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ত্বরিত ব্যবস্থা না নেয়া হলে সংকটের আঁধার আরো ঘনীভূত হবে।
সরকার বরাবরই কৃষি নিয়ে যত্নশীল। কৃষির উন্নয়নে অনেক গঠনমূল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যার কারণে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। সার নিয়ে উচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যত সংকট দেখা দিচ্ছে, সবগুলোর সমন্বয় করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি স্তরে। তাহলেই আমরা কৃষিতে আরো এগিয়ে যাব এবং খাদ্যে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করতে পারব।